বাংলাদেশ থেকে চার ধরনের দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার
বাংলাদেশের পাঁচটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) থেকে চার ধরনের দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার।
সোমবার সচিবালয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সামিখ আল মাররি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ-কাতার যৌথ কমিটির সপ্তম বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী বিশেষভাবে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান এবং ওয়েল্ডিং কর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কাতারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে চার লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাতারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রাখছেন।
মন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে এক লাখ সাত হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গেছেন। চলতি বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কাতারগামী কর্মীদের জন্য ঢাকায় মাত্র একটি ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা ও মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের জন্য কাতার সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর কাতারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করে কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সামিখ আল মাররি বলেন, বর্তমানে কাতারে প্রায় চার লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং বাকিরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত।
তিনি জানান, অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে কাতারে ইতোমধ্যে দুটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের পাঁচটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে সরাসরি দক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়েও কাতার আগ্রহী।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আলি মাহদি সাঈদ আল-কাহতানি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।











